শুভ জন্মদিন জহির রায়হান

তিনি সম্ভবত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচালক। না ফেরার জগতে পাড়ি জমানোর ৪৪ বছর পরেও বাংলা সিনেমায় তাঁর রেখে যাওয়া পদচিহ্ন এখনো অমলিন। বাংলাদেশিদের হৃদয়ে যতদিন জাতীয়তাবাদ এবং দেশপ্রেম বেঁচে থাকবে ততদিন বেঁচে থাকবেন তিনিও । অভিনব এক্ পন্থায়ও যে একটা জাতির স্রোতের অনুকূলে লড়াই , বাঙ্গালি মধ্যবিত্ত শ্রেণির শ্রম রূপালী পর্দায় তুলে আনা যায় , তাঁর আগে সেটা করে দেখাতে পারেন নি কেউ । হ্যাঁ , তিনি জহির রায়হান । মহান চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান। ৪৭’ এ দেশবিভাগের পর কলকাতা থেকে জহির রায়হান তাঁর পরিবারের সাথে পৈতৃক ভিটায় চলে আসেন। ফটোগ্রাফির প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকে এই বিদ্যা রপ্ত করার উদ্দেশ্যে ১৯৫২ সালে জহির রায়হান কলকাতায় পাড়ি জমান । সেখানে তিনি ভর্তি হয়ে যান ‘ প্রমথেশ বড়ুয়া মেমোরিয়াল ফটোগ্রাফি স্কুল ‘ এ ভর্তি হয়ে যান । জহির রায়হান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অফ আর্টস ডিগ্রী লাভ করেন। ‘ জাগো হুয়া সাভেরা ‘ সিনেমায় এ জে কারদারের সহকারি পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করার মাধ্যমে রূপালী পর্দার দুনিয়ায় পদযাত্রার শুরু। পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রথম সিনেমা ‘ কখনো আসেনি ‘ মুক্তি পায় ১৯৬১ সালে। তাঁর পরিচালিত ‘ জীবন থেকে নেয়া ‘ তো বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসেরই অন্যতম শ্রেষ্ঠ সিনেমা হিসেবে জ্বলজ্বল করছে এখনো। ‘ লেট দেয়ার বি লাইট ‘ দিয়ে জহির রায়হান বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন নিরীহ বাঙ্গালীদের উপর পাকিস্তানী হানাদারদের নৃশংসতা। এছাড়াও তাঁর পরিচালিত অন্যান্য চলচ্চিত্রগুলি হচ্ছে ; ‘ কাঁচের দেয়াল ‘ , ‘ সঙ্গম ‘ , ‘ বাহানা ‘ , ‘ বেহুলা ‘ , ‘ আনোয়ারা ‘ ইত্যাদি । চলচ্চিত্রটাকে ভালোবাসতেন মন থেকে । ভালোবাসতেন প্রিয় মাতৃভূমিকে। ১৯৩৫ সালের আজকের এই দিনেই ফেনী জেলার নিভৃতে মাজুপুর গ্রামে পৃথিবীর আলো দেখেন জহির রায়হান। শুভ জন্মদিন জহির রায়হান। বেঁচে থাকুন বাঙ্গালীর হৃদয়ে আমৃত্যু ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *